দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র-সংক্রান্ত কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ মানজুর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেশ টেলিভিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২ আগস্ট এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র হাতে নিয়ে কাজ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর পরীক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র-সংক্রান্ত কাজ করিয়েছেন—এমন অভিযোগ ওঠে এবং বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় রিপন হোসেন দাবি করেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ তিনি নিজেই সম্পন্ন করেছেন। কেবল পরীক্ষক কর্তৃক পূরণীয় কিছু ওএমআর বৃত্ত পূরণের কাজ বাকি ছিল। অসুস্থতা ও চোখের সমস্যার কারণে তার উপস্থিতিতেই কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় তিনি অল্প সময়ের জন্য কার্যালয়ে যান। এ ধরনের দায়িত্ব পালনে ত্রুটির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, শিক্ষক রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে।
রাঙ্গাবালীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড রিপন হোসেনকে বাংলা বিষয়ের ৩৫০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দিয়েছিল। আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/